মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে ইচ্ছা উনাকেই উনার নৈকট্যশীল বান্দারূপে মনোনীত করেন।’ সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত ও নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব হলেন হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। সুবহানাল্লাহ! অতএব, জিন-ইনসান, পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের যুগে উনাদেরকে অনুসরণ করা যেরূপ ফরয ছিলো- তদ্রুপ উনাদের পরবর্তী যুগে অর্থাৎ বর্তমানে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদেরকে অনুসরণ করাও সকলের জন্য ফরয। সুবহানাল্লাহ!
হিদায়েত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভের এটাই একমাত্র রাস্তা। এছাড়া দ্বিতীয় কোনো রাস্তা নেই।
এডমিন, ২৬শে জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২২ সামিন, ১৩৯০ শামসী সন, ২০ই জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ০৫ মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রসিদ্ধ কিতাব ‘দায়লামী শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “শায়েখ তথা ওলীআল্লাহ উনার যামানার লোকদের জন্য তদ্রƒপ সম্মানিত ও অনুসরণীয়, যেরূপ সম্মানিত ও অনুসরণীয় হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের উম্মতের নিকট।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে বান্দা-বান্দীর পক্ষে সরাসরি অনুসরণ করা সম্ভব হবে না; সেজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যমীনে পাঠিয়েছেন। অতঃপর সর্বশেষ নবী ও রসূল হিসেবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন। উনাকে পেয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাকে পরিপূর্ণরূপে মেনে, অনুসরণ-অনুকরণ করে সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, উলিল আমর বা হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদেরকে মেনে চলার বিষয়টি মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রথম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সূরা শরীফ ‘সূরাতুল ফাতিহা শরীফ’ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করে দিয়েছেন। যাতে বান্দা-বান্দী, উম্মত বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে আমল করতে পারে।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘সূরা ফাতিহা’ শরীফ উনাকে উম্মুল কুরআন বা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মূল বলা হয়। বর্ণিত রয়েছে, সমস্ত আসমানী কিতাব ও ছহীফাসমূহে যা উল্লেখ রয়েছে তার সবই উল্লেখ রয়েছে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে। আর সমগ্র পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে যা উল্লেখ রয়েছে তার সবই অর্থাৎ সারবস্তু উল্লেখ রয়েছে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার মধ্যে। সুবহানাল্লাহ! এই পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজের পরিচয় দেয়ার পর উনার নির্দেশিত মত মুবারক ও পথ মুবারক অনুযায়ী চলার জন্য বান্দা-বান্দীদেরকে এভাবে দোয়া করতে বলেছেন যে, “আয় বারে ইলাহী! আপনি আমাদেরকে সঠিক পথ দান করুন। এবং ঐ সমস্ত মনোনীত বান্দা উনাদের পথ মুবারক দান করুন, যাদেরকে আপনি নিয়ামত মুবারক দান করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূল কথা হলো- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরে ক্বিয়ামত পর্যন্ত অগত, অনাগত সকল বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশিত মত মুবারক ও পথ মুবারক অনুযায়ী চলতে হলে হযরত উলিল আমর তথা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদেরকে পরিপূর্ণরূপে মেনে চলতে হবে, অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে। হিদায়েত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভের এটাই একমাত্র রাস্তা। এছাড়া দ্বিতীয় কোনো রাস্তা নেই।
-০-













