জনগোষ্ঠীর বিপুল সংখ্যা বেকার থাকলেও শূন্যপদ পূরণে সরকারী তৎপরতাও শূন্য।
প্রায় চার লাখ সরকারী শূন্যপদ পূরণ হচ্ছে না মন্ত্রী-সচিবদের অনীহায় এবং অর্থ হাছিলের লালসায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে এবং বেকারদের কান্না নিরসনে শূন্য পদ পূরণে চাই সরকারের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম।
এডমিন, ২৭শে জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৩ সামিন, ১৩৯০ শামসী সন, ২১ই জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ০৬ মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের শূন্যপদ ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫টি বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। গত বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
অথচ ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল চাকরির সুবিধা পরিবারে পরিবারে পৌঁছে দেওয়া। যেখানে রাজস্ব খাতভুক্ত পদের বড় সংখ্যা শূন্য থাকে, সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এ প্রতিশ্রুতি যে পূরণ হয়নি তা সহজেই অনুমান করা যায়। বছরে সরকার গড়ে ৫০ হাজার শূন্যপদ পূরণ করতে পারে।
বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকার পরও সরকার কেনো শূন্যপদে জনবল নিয়োগ করতে পারে না? এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা শূন্যপদ পূরণে আগ্রহী হন না। জনবল নিয়োগ করতে গেলে ‘বদনাম’ হওয়ার আশঙ্কায় তারা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেন। বদনাম হলে আরও ওপরের পদে পদোন্নতি পাওয়ার আশা ভঙ্গ হতে পারে এ কারণে কর্মকর্তারা নিয়োগে আগ্রহ হারান।
জানা গেছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলেই সবার আগে ডেকে পাঠান মন্ত্রী। তিনি জানতে চান নিয়োগে তার সুপারিশমতো কত শতাংশ নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রেই মন্ত্রীর কথা রাখতে গেলে আর কোনো প্রার্থী নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকে না। কখনো কখনো মন্ত্রীরা শূন্যপদের চেয়ে বেশিসংখ্যক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
অপরদিকে মন্ত্রীরা জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত টাকার হিসাব না মিলবে ততক্ষণ নিয়োগ আটকে রাখেন আমলারা।
এভাবে মন্ত্রী-সচিবদের ধাক্কাধাক্কিতে একদিকে শূন্যপদ বাড়ছে। অন্যদিকে বেকারদের হাহাকার দীর্ঘতর হচ্ছে।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি ‘সরকারের শূন্যপদ পূরণ করতে হলে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া এসব পদ পূরণ করা সম্ভব হবে না। কার বদনাম হবে বা কে টাকা ঘুষ নিচ্ছে এগুলো উপেক্ষা করে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু সিদ্ধান্তেই চলবে না নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তা না হলে বিপর্যয়ের সময় শুনতে হবে জনবল নেই।
প্রধানমন্ত্রী শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু শূন্যপদ দ্রুত পূরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।
বিপুলসংখ্যক শূন্যপদ পড়ে থাকায় সরকারি কার্যক্রমই শুধু ব্যাহত হয়নি, শিক্ষিত বেকারদের মধ্যেও নানা ধরণের হতাশার সৃষ্টি করেছে। কারণ খুব সহসা এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত কী হবে তা অনুমান করা যাচ্ছেনা। ফলে তারা গভীর অনিশ্চয়তা থেকে হতাশ হতে বাধ্য হয়েছে। কর্মক্ষম যুবসমাজ বেকারত্বে ভুগে, সমাজে নানা ধরণের অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে।
সঙ্গতকারণেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী শূন্যপদে নিয়োগ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তকে সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হতে পারে, এ বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তদারকি থাকা দরকার বলে আমরা মনে করি। পাশাপাশি প্রতিটি পদে যোগ্যরাই নিয়োগ পাবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো মহল দলীয় বা সরকারপক্ষীয় পরিচয়ে অন্যায় হস্তক্ষেপে প্রভাব বিস্তার করবে না এটি সবার প্রত্যাশা।
মূলতঃ সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ মুবারক তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
ছহিবে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)













